Main Menu

মদিনায় অটোমান সাম্রাজ্যের রেলস্টেশন

অনলাইন ডেস্ক:

 

অটোমান সাম্রাজ্যের (১২৯৯-১৯২৩) শেষ সময়ে জার্মান প্রযুক্তি ব্যবহার করে তুর্কিরা মদিনার এই রেলস্টেশন নির্মাণ করেছিল। তৎকালীন সময়ে এটা ছিল অর্থনৈতিক ও প্রকৌশলগত বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেট ছিল ১৬ মিলিয়ন ডলার। এই প্রকল্পে ৫ হাজার তুর্কি সৈন্য নিয়োজিত ছিল। পূর্বপুরুষদের স্মৃতির সন্ধানে রেলওয়ে জাদুঘরের দর্শনার্থীদের তালিকায় তাই তুরস্কের নাগরিকদের সংখ্যা কিছুটা বেশি।

১৯০৮ সালের ২৩ আগস্ট অটোমান শাসক আবদুল হামেদ আনুষ্ঠানিকভাবে রেললাইন চালু করেন। রেললাইনের বিস্তৃতি ছিল সিরিয়ার দামেস্ক শহর থেকে সৌদি আরবের মদিনা পর্যন্ত। এই পথে জর্ডানের আম্মান শহর ছুঁয়ে ট্রেন আসত মদিনায়। মূলত, সে সময়ে ইরাক বা সিরিয়া থেকে হজব্রত পালন করতে আসা সহজ এবং নিরাপদ করাই ছিল এই রেললাইনের উদ্দেশ্য। যেমন ট্রেন চালুর আগে সিরিয়ার দামেস্ক থেকে মদিনায় আসতে সময় লাগত ৪৫ দিন, চালুর পর তা কমে আসে মাত্র ৫ দিনে। তা ছাড়া দীর্ঘ যাত্রায় দস্যুরা হজযাত্রীদের সম্পদ লুণ্ঠন করত। ট্রেন চালু হওয়ার ফলে হজযাত্রীরা নিরাপদে পৌঁছাতেন।

মদিনা স্টেশনের উদ্বোধনের পর হেজাজের সঙ্গে আরব বিশ্বের বাকি অংশের সঙ্গে দ্রæত যোগাযোগের এক নতুন দিক উন্মোচিত হয়। প্রথম বছর ত্রিশ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয় এবং পরবর্তী ছয় বছরের মাথায় বেড়ে দাঁড়ায় বছরে তিন লাখে।

রেলপথ বন্ধ হওয়ার করুণ ইতিহাস: ১৯১৪ সাল। প্রথম মহাযুদ্ধ শুরু হলো। প্রথম মহাযুদ্ধে তুরস্ক অক্ষশক্তির পক্ষে ছিল। স্বভাবতই ইংরেজরা সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করে তুর্কি সাম্রাজ্য ফাটল ধরানোর। সফলও হলো। ইংরেজদের প্রলোভিত প্রস্তাবে সাড়া দেন মক্কার আমির শরিফ হোসাইন বিন আলী (১৮৫৪-১৯৩১)। আগেই বলেছি, হেজাজ রেলওয়ে ছিল উসমানীয় রেলওয়ে নেটওয়ার্কের একটি অংশ। ইস্তাম্বুল থেকে দামেস্ক হয়ে মক্কা পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য এটি নির্মাণ করা হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে মদিনার পর আর নির্মাণ সম্ভব হয়নি।

১৯২০ সালে হঠাৎই বন্ধ হয় হেজাজ রেলওয়ে। তারপর নানান কারণে রেলস্টেশনটি সৌদি সরকারও চালু করেনি। এখন তো ঐতিহ্য হিসেবে হেজাজ রেলস্টেশনকে জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় ১০০ বছর পর রেলস্টেশনটি এখন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *