Main Menu

সিলেটে ব্রিটিশ তরুণী সামিয়া হত্যা না দুর্ঘটনা! ময়না তদন্তের রিপোর্টের আগেই ওসি বলেন দুর্ঘটনা

গোলাপগঞ্জ উপজেলার হিলালপুর ড্রিমল্যান্ড ওয়ার্টার পার্কের কার রাইডে আহত হওয়া যুক্তরাজ্য প্রবাসী শিক্ষার্থী মুনতাহা আক্তার সামিয়া (১৯) মৃত্যু রহস্যের কোন কোল-কিনারা হয়নি।

ঘটনার পূর্বে জোরপূর্বক ভাবে হলফনামার মাধ্যমে বিয়ে করা কথিত স্বামী রুহুল আলম জাকারিয়া (৩৪) এর সঙ্গে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ চলছিলো। তাদের অভিভাবকদের মাঝে বনিবনা হচ্ছিল না। ঘটনার আগে জাকারিয়া, সামিয়া ও তার মাকে প্রাণনাশের হুমকী দিয়ে ছিলো। এই হুমকীর কারণে সামিয়ার মা রাজমিন করিম সিলেট নগরীর উপশহর বাসায় থাকাবস্থায় এস.এম.পি’র হযরত শাহপরান থানায় জাকারিয়ার বিরুদ্ধে গত ১৫ আগস্ট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। গত ৩রা অক্টোবর সন্ধ্যায় জাকারিয়া সামিয়াকে সাথে নিয়ে ড্রিমল্যান্ড ওয়ার্টার পার্কে বেড়াতে যায়। এক পর্যায়ে তারা দু’জন পার্কে কার রাইডে ওঠেন। রাইড চলাকালীন সময় জাকারিয়া পিছনের রাইডে থেকে সামনের রাইডে চলন্ত অবস্থায় সামিয়াকে ধাক্কা দেন। এই ধাক্কায় সামিয়া আহত হয়ে ছিলেন। এই তথ্যটি বিশ^স্থ সূত্রের।
আহত অবস্থায় সামিয়া উপস্থিত কথাবার্তা বলেন। সংশ্লিষ্টরা তাকে ওই সময় পানি খেতে দেন। সামিয়া পানি খেয়ে বলেছিলেন তার বুকে ব্যাথা ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ সময় সামিয়ার শরীরে কোন রকম জখম ছিলো না। জাকারিয়া সামিয়াকে পার্কের কার রাইড থেকে উঠিয়ে তখন গেইট পাস হয়ে সামিয়াকে সাথে নিয়ে চিকিৎসার জন্য গাড়ি যোগে সিলেট শহরের দিকে রওয়ান দেন বলে পার্ক সূত্রে জানা যায়। কিন্তু পথিমধ্যে গাড়িতে সামিয়া কি ভাবে মারা গেল তা রহস্যজনক। গাড়িতে সামিয়কে খুন করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন মা রাজমিন করিম।

৩ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সামিয়াকে সিলেট এম.এ.জি ওসমনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায় জাকারিয়া। এ সময় উপস্থিত চিকিৎসকগণ সামিয়াকে পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

৩য় পক্ষের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে সামিয়ার মা রাজমিন করিম হাসপাতালের জরুরী বিভাগে উপস্থিত হয়ে সামিয়ার লাশের দিকে তাকিয়ে দেখেন গলায় জখম, নাক দিয়ে রক্ত ঝরছে। সামিয়ার গলার অলংকারটি তার বুকের পাজরের ভেতরে আঘাত করা অবস্থায় দেখতে পান।

রাজমিন করিম অভিযোগ করে বলেন, এ রকম ঘটনা পার্কের কার রাইডে হতে পারে না। পার্কে আহত অবস্থায় সেই লক্ষণগুলো ছিলো না। সামিয়ার লাশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ময়না তদন্ত ও জেলা পুলিশ কর্তৃক সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ৪ অক্টোবর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মা রাজমিন করিম এর কাছে লাশটি হস্তান্তর করেন। ওই দিন সামিয়ার লাশ গোলাপগঞ্জ উপজেলার উত্তর রায়গড় নানার বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়।

দাফন সম্পন্নের আগে সামিয়ার লাশটি গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় নেয়া হয়। থানার একজন উপ-পরিদর্শক নিজ হাতে একটি অভিযোগ নামা টাইপ করে লিখে রাজমিন করিমকে বলেন, দস্তখত করতে। উপ-পরিদর্শকের কথামত ওই অভিযোগ নামায় দস্তখত করলে অভিযোগটি অপমৃত্যু মামলা হিসেবে থানায় রুজু হয়। মামলা নং- ৭।

তাছাড়া সামিয়ার লাশের ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগেই গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুনুর রশীদ চৌধুরীর কাছে গত ১৩ অক্টোবর বেলা ১টা ১১ মিনিটের সময় সামিয়া হত্যা না দুর্ঘটনা জানতে চাইলে এ প্রতিবেদকের কাছে ওসি বলেছিলেন “সামিয়া পার্কের কার রাইডে ওড়নায় পেচ লেগে মারা গেছেন বলে জোর দিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে তিনি শতভাগ নিশ্চিত।”
ওসি হারুনুর রশীদ চৌধুরীর এমন বক্তব্য জানতে পেরে রাজমিন করিম বলেন, ‘ওসির বক্তব্য পক্ষপাত দুষ্ট আচরণ। এই বক্তব্যে আসল ঘটনাকে আড়াল করার ও অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টার উপায় খোঁজা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাজমিন করিম এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রবাসীরাও তিনির কাছে ফোনে যোগাযোগ করে ওসি হারুনুর রশীদ চৌধুরীর পক্ষপাত মূলক বক্তব্যে দেশ ও বিদেশে স্বজন ও প্রবাসীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ওসির প্রতি ধিক্কার ও নিন্দা জানিয়েছেন।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *