Main Menu

ডিজিটাল অর্থ সহায়তা পাচ্ছে ২ লাখ পরিবার

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক করোনা মহামারী (কোভিড-১৯) সময়ে বাংলাদেশি দরিদ্র পরিবারগুলোকে সহায়তার জন্য একটি ‘ডিজিটাল ক্যাশ’ প্রদান কার্যক্রম চালু করেছে। এ কার্যক্রমে দিনমজুরীর মাধ্যমে যারা জীবিকা নির্বাহ করছে এবং গ্রামে বসবাসরত অতি দরিদ্র পরিবারকেগুলো থেকে ২ লাখ পরিবারকে ব্র্যাক নগদ সহায়তা প্রদান করবে।

১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশের দরিদ্রতার হার কমেছে ৩০ শতাংশ, ১৬১ মিলিয়ন জনসংখ্যার ১৪ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন ১.৯০ ডলার আয় করে জীবন যাপন করছে। এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত দেশের ৮৫ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন ৬ ডলার বা তার কম আয় করেন।

ব্র্যাকের একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, করোনা মহামারীর কারণে ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে ৩৫ শতাংশ পরিবার থেকে কমপক্ষে ১জন সদস্য তাদের চাকরি হারিয়েছেন। মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে ৭৪ শতাংশ পরিবারের আয়ের ক্ষতি হয়েছে।

বাংলাদেশি হিসাবরক্ষক স্যার ফজলে আবেদ ১৯৭২ সালে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করেন। ব্র্যাক মূলত বাংলাদেশের যুদ্ধ শরনার্থীদের সহায়তার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দারিদ্রতার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বিকশিত হয়। সংস্থাটি দূর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য আইনী সহায়তা ও শিক্ষার জন্য অর্থ সহায়তার মাধ্যমে দারিদ্রতার বিরুদ্ধে লড়াই করছে। বাংলাদেশ, আফ্রিকাসহ এশিয়ার ১০টি দেশে তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম এনজিওতে পরিনত হয়েছে। শুধুমাত্র ২০১৮ সালে ব্র্যাকের ঋণের মাধ্যমে দেশের ৮ মিলিয়ন দরিদ্র মানুষ উপকৃত হয়েছে।

সরকারি বন্ধের ফলে অনেক বাংলাদেশি কাজ থেকে আলাদা হয়েছে। ঐ পরিবারগুকে তাদের চাকরিতে ফিরে না আসা পর্যন্ত বা নতুন কোনো চাকরিতে যোগদানের আগ পর্যন্ত বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগান দিতে পারে এ ডিজিটাল নগদ অর্থ সহায়তা। মহামারী চলাকালীন সময়ে ডিজিটাল নগদ অর্থ সহায়তা বেশি সুরক্ষিত ও নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) কাগজের টাকা লেনদেনের চেয়ে স্পর্শহীন লেনদেনের পরামর্শ দেয় কারণ, কাগজের তৈরি টাকার মাধ্যমে করোনা ছড়াতে পারে। দেশের ৮৭ শতাংশ শ্রমিক তথাকথিত ‘অনানুষ্ঠানিক খাত’ -এ কাজ করে। এ খাতের অর্থ সরকারিভাবে নিরিক্ষণ ও সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রণ হয় না। এমন কর্মচারিরা তাদের নিয়োগকর্তাদের কাজ থেকে বেতনভোগী ছুটি, স্বাস্থ্যবীমা ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করেন না। করোনা মহামারীর কারণে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার পর দেশে শুধুমাত্র পোশাক খাতের এক মিলিয়ন শ্রমিক তাদের চাকরি হারিয়েছেন। যখন শ্রমিকদের নিয়োগকর্তার নিকট কোনো সুবিধা বা সঞ্চয় নেই, তাই অন্য কোনো নতুন চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত তাদের বেঁচে থাকার জন্য ডিজিটাল অর্থ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এপ্রিলে ডিজিটাল অর্থ সহায়তার প্রথম ধাপে ১ লাখ পরিবারকে ১৮ ডলার করে দিয়েছে সংস্থাটি। বাংলাদেশের চার জনের একটি পরিবারের দুই সপ্তাহের খাবারের জন্য এ অর্থ যথেষ্ট। পরবর্তীতে ব্র্যাক ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি পরিবারকে ৩.২ মিলিয়ন ডলার অনুদান প্রদান করে একই সঙ্গে দরিদ্রদের জন্য বীমা ও সঞ্চয় সুবিধাও প্রদান করেছে। করোনা মহামারীরতে সরকারি ছুটির কারণে অনেক পরিবার হতাশায় ভুগছে , ব্র্যাকের ডিজিটাল অর্থ সহায়তার মাধ্যমে দেড় লাখেরও বেশি পরিবার আর্থিক উত্সাহ পেয়েছে। ব্র্যাকের এ উদ্যোগটি বাংলাদেশের দরিদ্র তালিকায় পড়তে যাওয়া সংখ্যাকে হ্রাস করবে।

সূত্র :বর্জেন ম্যাগাজিন ডটকম






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *