Main Menu

যেভাবে সুস্থ থাকতে পার

আজমেরী রহমান সিনথীয়া

ঘুমের সময় বাড়াতে হবে

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে গবেষণা বলে যে, নিয়মিত ঘুম ঘাতক কোষ, জীবাণু এবং ক্যানসারের মতো ক্ষতির মুখ থেকে রক্ষা করে। তোমাদের মতো ছোট্ট বন্ধুদের ক্ষেত্রেও তা ব্যতিক্রম নয়। আমেরিকান শিশু হাসপাতালের সেন্টার ফর হোলিস্টিক পেডিয়াট্রিক এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ-এর পরিচালক এমডি ক্যাথি কেম্পার বলেছেন- ‘একটি শিশুর ৯-১০ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে।’ অতএব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অন্তত তোমরা নিয়ম করে ৯ ঘণ্টা ঘুমাবে। তাই, বাচ্চারা, নো রাতজাগা!

হাসতে হবে

হাসি অ্যান্টিবডি উৎপাদনকারী কোষগুলো বাড়িয়ে দেয়। আমাদের দেহের হ্যাপি হরমোন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অসাধারণ কার্যকরী। তাই বন্ধুরা, সবসময় হাসিখুশি থাকো। আজ থেকে মন খুলে হাসবে কিন্তু তোমরা, কেমন?

শরীরচর্চা

তোমাদের বয়স অনুযায়ী হালকা শরীরচর্চা করতে হবে। এতে শরীর ফিট থাকবে। খেলাধুলা, নাচানাচি, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা, শারীরিক কসরত-এসব করলে যেমন আনন্দ পাওয়া যায় তেমনি শরীরের ব্যায়ামও হয়। তবে সাবধান, বড়োদের সাহায্য ছাড়া একা কখনো সাঁতার কাটতে চেষ্টাও করবে না।

খাদ্য

প্রোটিন : প্রোটিন জাতীয় খাবার খেয়ে শরীরে শক্তি বাড়াতে হবে, বুঝলে? প্রোটিন রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শক্তি জোগায়। এই মৌসুমে শরীর সুস্থ রাখতে উন্নতমানের প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে হবে। ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, ডাল থেকে পেতে পারো প্রোটিন। তাই তোমরা কিন্তু ডিম, দুধ, মাছ, মাংস খাবে মনে করে।

বাদাম : বাদাম ভিটামিন ই এবং ম্যাঙ্গানিজ দ্বারা ভরা যা একটি শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে জাগিয়ে তোলে। তাই প্রতিদিন একটু করে হলেও বাদাম খেতে হবে। তোমরা বিকেলের স্ন্যাকসে বাদাম খেতেই পারো।

দই : দইয়ে প্রোবায়োটিক নামক সহায়ক জীবাণু রয়েছে, যা তোমার শরীরের অসুস্থতার সাথে লড়াই করতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসকল শিশু নিয়মিত দই গ্রহণ করে তাদের সর্দি, ঠান্ডার ঝুঁকি কম। তবে ঠান্ডা দই ভুলেও খাবে না কিন্তু। ঠিক আছে?

সবুজ শাকসবজি : সবুজ শাকসবজিতে গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা তোমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। তবে যখন শাক খাবে অবশ্যই লেবু দিয়ে খাবে। মাকে বলবে যেন তেল দিয়ে রান্না করেন। সবজি হাফ সেদ্ধ সবচেয়ে পুষ্টিদায়ক। চেষ্টা করবে হাফ সেদ্ধ সবজি খেতে।

গাজর : তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য গাজর অসাধারণ খাবার। গাজর শ্বাসকষ্ট ও ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। স্বাস্থ্যকর ডায়েট তৈরি করতে খাবারে গাজর অন্তর্ভুক্ত করতে বলো মাকে। আর তোমরা মজা করে কাঁচা গাজর খাবে একদম খরগোশের মতো!

ভিটামিন সি : ডিশুম ডিশুম করতে তোমাদের শরীরে কিন্তু সি লাগবেই। কারণ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি দারুণ কার্যকরী। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে হৃদ্‌রোগ, ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। আমলকি, লেবু, কমলালেবু, পেয়ারা, জাম্বুরা, আমড়া, পেয়ারা, পেঁপে, কাঁচা মরিচ ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। তাই প্রতিদিন তোমাদের খাবারে ভিটামিন সি রাখতে হবে। তাতে করে তোমরা সুস্থ ও রোগমুক্ত থাকবে। অতএব কোনো হেলাফেলা নয় সি নিয়ে। এছাড়াও জিংক, ভিটামিন বি১২ এগুলোও রাখতে হবে খাবারে।

প্রিয় কচি-কাঁচা বন্ধুরা, তোমাদের সামনে অনেক ভালো সময় আসছে। অনেক খেলব, ঘুরব, মজা করব আমরা। একদম মন খারাপ করবে না। মনে রেখো, আমরা যদি সচেতন থাকি, নিয়মমতো চলি, তাহলে করোনা আমাদের কাছে ঘেঁষতে পারবে না। খুব শিগগির আমাদের পৃথিবী করোনামুক্ত হবে। সবাই সুস্থ থেকো, ভালো থেকো। সূত্র : ইত্তেফাক






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *