Main Menu

প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে অধিকতর সহযোগিতার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময়ই মনে করি যে এই অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের জন্য প্রথমেই প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে আরো বেশি সহযোগিতামূলক সম্পর্ক প্রয়োজন কারণ আমাদের বৈদেশিক নীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব এবং কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়’।’

বৈঠকে হাই কমিশনার ভারতের “প্রতিবেশী প্রথমে” নীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে দুই দেশের মধ্যে যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি হয়েছে তা তুলে ধরেন। মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী এবং পরের বছরে বাংলাদেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পঞ্চাশতম বার্ষিকী উদযাপন বিষয়েও আলোচনা করেন তারা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আজ সকালে গণভবনে ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি একথা বলেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সময় ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতের হাইকমিশনার সাক্ষাতে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলী নিয়ে আলোচনা করেন। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি এবং দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সমস্যাও আলোচনায় উঠে আসে, বলেন প্রেস সচিব।

এ প্রসঙ্গে রীভা গাঙ্গুলী বলেন, এই মরনঘাতী ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দুই দেশই একসঙ্গে কাজ করছে। এই মহামারীর বিস্তার রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করেন তিনি। হাইকমিশনার কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও প্রশংসা করেন। শেখ হাসিনা বলেন, সকল স্তরের এবং শ্রেণীপেশার জনগণ এই সংকট মোকাবেলায় একযোগে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। ‘তবে করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে আমরা অনেক অনুষ্ঠানই উদযাপন করতে পারিনি।’

তিনি বলেন, সরকারের বৃক্ষরোপণ অভিযানের পাশাপাশি তার দল মুজিববর্ষের সময় সারাদেশে এক কোটি বৃক্ষ রোপনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। হাইকমিশনার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি চিঠিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। যেখানে তিনি (নরেন্দ্র মোদী) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। ভারতের হাইকমিশনারও এ সময় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে তাঁকে শুভকামনা জানান। শেখ হাসিনা তাঁকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রীভা গাঙ্গুলি উভয়কেই ধন্যবাদ জানান, বলেন প্রেস সচিব।

শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ভারতের জনগণ এবং এর সব রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে অভূতপূর্ব সমর্থন জানিয়েছিল এবং একইভাবে তারা বাংলাদেশের সাথে ঐতিহাসিক স্থলসীমা চুক্তিকেও সমর্থন জানায়। আগামী মঙ্গলবার ভারত এবং বাংলাদেশের দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হবেন বলেও হাইকমিশনার শেখ হাসিনাকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এবং ঢাকায় ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার বিশ্বদীপ দে এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ভারতীয় হাই কমিশনার ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভারত সফরের কিছু দুর্লভ ফুটেজ প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন। প্রধানমন্ত্রী ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বিদায়ী হাই কমিশনারকে ধন্যবাদ জানান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সচিব (পূর্ব) হিসেবে তাঁর পরবর্তী কর্মজীবনের জন্য শুভকামনা জানান।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *