Main Menu

বারোমাসি তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন পাকুন্দিয়ার কৃষক

বাইরে সবুজ, ভেতরে টকটকে লাল, খেতে সুস্বাদু ও মিষ্টি এক সময়কার মৌসুমি ফল তরমুজ এখন পাওয়া যাচ্ছে বছর জুড়ে। দাম একটু বেশি হলেও সারা বছর তরমুজের স্বাদ নিতে পারছেন ক্রেতারা। তাই ক্রেতাদের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং অন্য ফসলের চেয়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় বারোমাসি এ তরমুজ আবাদে ঝুঁকছেন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর এখানে মাত্র এক বিঘা জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছিল। এ বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অর্ধ-শতাধিক কৃষক তাদের জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন। রোপণের তিন মাস সময়কালের মধ্যেই তরমুজ বিক্রির উপযোগী হয়ে যায়। ৬০-৬৫ দিনের মধ্যে পরিপক্ব হয় তরমুজ। তখন থেকেই বিক্রি শুরু হয়ে চলে পুরো এক মাস। প্রতিটি তরমুজ ৩-৪কেজি পর্যন্ত ওজনের হয়ে থাকে। আকারে যেমনই হোক পরিপক্ব সব তরমুজের স্বাদ ও মিষ্টতা একই। ইতিমধ্যে পুরোদমে চলছে তরমুজ বেচাকেনা। ক্রেতাদের আগ্রহ অনেক বেশি। তারা কৃষকদের জমিতে গিয়ে তরমুজ বাগান দেখছেন ও কিনছেন। প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা দরে। তরমুজ চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মাঝে দিনদিন আগ্রহ বাড়ছে।

উপজেলার আঙ্গিয়াদী গ্রামের তরমজু চাষি সালমা-আতাবুর দম্পত্তি জানান, ১০ শতক জমিতে তরমুজ চাষে তার খরচ হয়েছে ২০-২৫ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে ৫০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। আরও প্রায় এক লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন।কম খরচে বেশি মুনাফা পাওয়ায় সারা বছরই তিনি এর আবাদ করবেন বলেও জানান।

কুমড়ী গ্রামের মাসুদ মিয়া পার্শ্ববর্তী আঙ্গিয়াদী গ্রামে তরমুজ চাষ দেখে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হামিমুল হক সোহাগের পরামর্শে ১০ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। প্রথমবারই বাজিমাত করেছেন।

শাকিল আহমেদ নামের একজন ক্রেতা জানান, অসময়ে সুমিষ্ট তরমুজ এটি। তাছাড়া এগুলো বিষমুক্ত হওয়ায় নির্ভয়ে খাওয়া যায়।

আঙ্গিয়াদী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হামিমুল হক সোহাগ ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রথম দিকে কৃষকদের অনেক চেষ্টার মাধ্যমে তরমুজ চাষে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ফসলটি লাভজনক হওয়ায় এখন তা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আগামী দিনে আশা করা যায়, অন্যান্য ফসলের মতো তরমুজও বছরজুড়ে কৃষকের মাঠে থাকবে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল আলামিন ইত্তেফাককে বলেন, ‘অন্য ফসলের চেয়ে অনেক লাভজনক হওয়ায় এ উপজেলার কৃষকেরা বারোমাসি তরমুজ আবাদে ঝুঁকছেন। আগামী বছর ৪০ থেকে ৫০ বিঘা জমিতে এ ফসল আবাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তরমুজসহ বিভিন্ন উচ্চ মূল্যের ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে উপজেলা পর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।’






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *