Main Menu

যুক্তরাষ্ট্রে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালন

যথাযথ মর্যাদায় নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে জাতীয় শোক দিবস এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস, নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটসহ বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এসব অনুষ্ঠানে বক্তারা শোককে শক্তিতে পরিণত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

দিবসটি উপলক্ষে স্থানীয় সময় শনিবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও তবারক বিতরণ করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক স্টেট ও মহানগর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অ্ঙগ সংগঠনের নেতাকর্মিরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন ইউএসএ’র উদ্যেগে নিউইয়র্কে জাতীয় শোক দিবস উদযাপন করা হয়। দিনটি উপলক্ষে স্থানীয় সময় শনিবার জ্যামাইকার ক্যাপ্টেন টিলি পার্কে শিশু কিশোরদের নিয়ে আয়োজন করা হয় এক অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানে বক্তারা যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর অন্যতম খুনি রাশেদ চৌধুরীকে অবিলম্বে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে তার মৃত্যুদ- কার্যকরের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে পঁচাত্তরের পণেরই আগস্ট সেই কালো রাতে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শিশু রাসেলের নির্মম হত্যাকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য দেয় নতুন প্রজন্মের শিশুরা। শিশু রাসেলের হত্যাকারীদের যারাই এখনো জীবিত আছে তাদের অবিলম্বে মৃত্যুদ- কার্যকরের পাশাপাশি যারাই এই হত্যাকারীদের হয়ে সাফাই গাইবে, তাদের বিরূদ্ধে রুখে দাড়াবার শপথ নেয় উপস্থিত শিশু-কিশোররা।

নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় শনিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দোয়া মাহফিল ও তবারক বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্র আত্তয়ামী পরিবার জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালন করে। অনুষ্ঠানে পণেরই আগস্ট নিহতদের স্মরণ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্চলি জানানো হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যা পরবর্তী রাজনীতি ও আজকের বাংলাদেশ শীর্ষক সেমিনার ও আলোচনায় বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর ও হৃদয় ভারাক্রান্ত পরিবেশে জাতীয় জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়। দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীবৃন্দ কালোব্যাচ পরিধান করে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এবং ৭৫ এর ১৫ আগস্টে নির্মমভাবে নিহত তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন এবং তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন কর্তৃক বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে অর্ধনিমিত করার মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে দূতাবাস প্রাঙ্গণে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং মহান নেতার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করা হয়।

দিবসের অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে ছিল জাতীয় নেতৃবৃন্দের বাণী পাঠ, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং ১৫ আগস্টে নিহত শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এদিকে নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে ‘জাতীয় শোক দিবস’ পালন করে। বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস এর অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, স্বাগতিক দেশের বিধি-বিধান প্রতিপালন করে কনস্যুলেটে এই দিবসটি পালন করা হয়। এ উপলক্ষে কনস্যুলেট অফিসে বাংলাদেশের পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এছাড়া জাতির পিতা, তাঁর পরিবারের অন্যান্য শহীদ সদস্য ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার শান্তি কামনায় ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতির পিতা এর উপর নির্মিত একটি প্রামান্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে কনস্যুলেটের হলরুমে স্থাপিত ‘মুজিব গ্যালারি’র উদ্বোধন করেন কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা। বাংলাদেশী-আমেরিকান নতুন প্রজন্মের মাঝে জাতির পিতা’র চেতনা ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়াসেই কনস্যুলেটে মুজিব গ্যালরি স্থাপন করা হয়েছে এবং কনস্যুলেটে আগত সকল সেবাপ্রার্থীসহ কম্যুনিটির সকলের পরিদর্শনের জন্য উম্মুক্ত থাকবে ‘মুজিব গ্যালারি’। এছাড়াও, কনস্যুলেটের ওয়েবসাইটে ’বঙ্গবন্ধু ফটো গ্যালারি’ নামে একটি ভার্চুয়াল ‘মুজিব গ্যালারি’র উদ্বোধন করেন কনসাল জেনারেল। তিনি কনস্যুলেটের ওয়েবসাইটে ভার্চুয়াল ‘মুজিব গ্যালারি’ পরিদর্শনের জন্য কমিউনিটির সকলকে আহবান জানান।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়। কোভিড-১৯ মহামারির প্রেক্ষিতে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব মেনে মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে স্থানীয় সময় সকাল ১১ টায় আয়োজন করা হয় জাতীয় শোক দিবসের এ অনুষ্ঠান। এর আগে স্থায়ী মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মাধ্যমে জাতির পিতার ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালনের কর্মসূচি শুরু করা হয়। এসময় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতির পিতা, বঙ্গমাতা এবং তাঁদের শহীদ পরিবারবর্গসহ ১৫ আগস্টের সকল শহীদদের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

মোনাজাতের পর বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে রাখা জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমার নেতৃত্বে মিশনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা।

আলোচনা পর্বে ১৫ আগস্টের শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার মাধ্যমে জাতির পিতা যে স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন স্ব স্ব অবস্থান থেকে তা অর্জনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আলোচকরা।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *