Main Menu

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমাতে বাড়ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার

বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম বড় সমস্যার নাম বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। প্রতি বছরই বাড়ছে পৃথিবীর তাপমাত্রা। আর বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে পৃথিবীতে বাড়ছে বন্যা, খরা, ভূমিকম্প, ভূমিধসের মতো সমস্যা। পৃথিবীর এই উষ্ণায়নের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা জীবাশ্ম জ্বালানির। কিন্তু ধীরে ধীরে এই জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। আশার কথা, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে পৃথিবীর অনেক দেশ জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পথে হাঁটছে। জ্বালানি ব্যবহারের দিক দিয়ে এগিয়ে থাকা বিশ্বের ৪৮টি দেশের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

মানবসভ্যতার বিকাশের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেলের ব্যবহার। আধুনিক বিশ্বেও বন্ধ হয়নি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার। কলকারখানা, গাড়ি, জাহাজ, ট্রেন, উড়োজাহাজের জ্বালানি হিসেবে প্রধানত জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহূত হয়। প্রকৃতি থেকে আহোরিত এই জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারে খুব বেশি পরিবেশদূষণ ঘটে। মোটরগাড়ি ও কলকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া পরিবেশ দূষিত করে। বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। এছাড়া জীববৈচিত্র্যের ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই এসব ক্ষতিকর বিষয়কে পাশ কাটিয়ে কীভাবে বিকল্প জ্বালানির সংস্থান করা যায়, সেদিকে ধীরে ধীরে মনোযোগী হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিকল্প জ্বালানির উত্স হিসেবে বিজ্ঞানীদের কাছে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে সূর্যশক্তি ও বায়ুশক্তি। এছাড়া জলবিদ্যুত্ জ্বালানির বিকল্প উত্স হিসেবে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতেও এই বিষয়ের ওপর বেশ জোর দেওয়া হয়।

গবেষকেরা বলছেন, উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে বায়ুশক্তি ও সূর্যশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে বিশ্বের বিদ্যুত্ চাহিদার ১০ শতাংশ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে। এর ফলে কমেছে কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জ্বালানি ব্যবহারের এই পরিবর্তনে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের হারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে গবেষকেরা বলেন, ২০১৯ সালে যেখানে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহূত হতো, ২০২০ সালে এসে তা ১৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া করোনা ভাইরাসের কারণে দেশে দেশে লকডাউন আরোপে বিদ্যুতের ব্যবহার ৩ শতাংশ কমেছে। অনেক দেশে কয়লার ব্যবহার কমে এলেও বিশ্বের ৩৩ শতাংশ বিদ্যুত্ চাহিদা এখনো কয়লা থেকেই মেটানো হচ্ছে। গবেষক দলের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ডেভ জোনস বলেন, বিশ্বব্যাপী কয়লার ব্যবহার ১৩ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব।

অন্য এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে বায়ুকে কাজে লাগিয়ে ২১ শতাংশ এবং সৌরশক্তি থেকে ৩৩ শতাংশ জ্বালানি ব্যবহূত হয়েছে। এছাড়া চীনে ১০ শতাংশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১২ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহূত হয়েছে।—আলজাজিরা






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *