Main Menu

করোনা সনদ জালিয়াতির কথা স্বীকার করলেন ডা. সাবরিনা ও আরিফুল

অনলাইন ডেস্ক :

 

 

করোনা টেস্টের সনদ জালিয়াতি করার কথা স্বীকার করেছেন ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও তার স্বামী জেকোজি’র প্রধান নির্বাহী আরিফুল চৌধুরী। তারা করোনা টেস্টের জন্য সরকারি থোক বরাদ্দের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে অধিক নমুনা সংগ্রহ ও ভুয়া করোনা সনদ দেওয়ার শুরু করেন। সরকারি বরাদ্দ হাতিয়ে নিতে তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চার কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তাদেরকে আরও অধিক নমুনা সংগ্রহের পরামর্শ দেন। দ্রুত করোনার সনদ দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কাছে একটি পিসিআর (পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন) মেশিন চেয়েছিলেন জেকেজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আরিফুল হক চৌধুরী। সেটা না পেয়ে তারা দ্রুত সনদ দেওয়ার জন্য যাদের ৫টির কম উপসর্গ ছিল তাদের নেগেটিভ এবং যাদের ৫ বা তারও বেশি উপসর্গ ছিল তাদের পজিটিভ সনদ দেওয়া শুরু করে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (ডিবি) জেরার মুখে এমন তথ্য দিয়েছেন রিমান্ডে থাকা ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও তার স্বামী আরিফুল চৌধুরী। করোনা সনদ জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তারা বর্তমানে দ্বিতীয় দফায় পুলিশ রিমান্ডে আছেন।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তারা সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ডা. সাবরিনা ওভাল গ্রুপের কাছ থেকে নেওয়ার দুটি চেক পাওয়া গেছে। তার একটি চেক ৫ লাখ টাকার। আরিফ যখন বিপদে পড়ে তখন, সাবরিনা নিজেই ওই চেকটি নিজেই প্রত্যাখ্যান করায়। ডা. সাবরিনা জেকেজি ও ওভাল গ্রুপ থেকে মাসে ৫০ হাজার টাকা করে বেতন নিতেন। তার প্রমাণও আমরা পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আরিফকে তালাক দেওয়ার যেসব কথা ডা. সাবরিনা বলছেন সেটা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও তালাক নামাও সাজানো। আমরা মনস্তাত্ত্বিক কৌশল হিসেবে সাবরিনার সামনে আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদের নানা কৌশল প্রয়োগ করি। তখন আরিফ সাবরিনা বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তখন জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেছিলেন, ‘আরিফ অসুস্থ। প্লিজ তাকে একটু রেস্টে থাকতে দেন।’ সাবরিনার ফেসবুকে ছবি দেওয়া ও অন্যান্য সম্পর্ক বিষয়ে মাহবুব আলম বলেন, ‘সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। আমরা ওই দিকে যাচ্ছি না। আমরা বরং তার করোন সনদ জালিয়াতি ও প্রতারণার সঙ্গে আর কারা সম্পৃক্ত সেটা বের করার চেষ্টা করছি।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, ডা. সাবরিনা ডাক্তার হিসেবে তার ফেসভ্যালু এবং পরিচিতিকে পুঁজি করে প্রতারণা করেছেন। তিনি সরকারি সংস্থার কাজ করেন। তাই তদন্তে তার যেসব অনিয়মের তথ্য আমরা পাব, সেগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রণালয়কে জানাব। তারা অনিয়মের ভিত্তিতে বিবেচনা করবে, সেগুলো ডিপার্টমেন্টাল অফেন্স না-কি ক্রিমিনাল অফেন্স। ক্রিমিনাল অফেন্স হলে তারা যদি আমাদের কাছে আইনি সহায়তা চায়, তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

করোনা পরীক্ষার সনদ জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৩ জুন জেকেজি’র প্রধান নির্বাহী আরিফুল হক চৌধুরীসহ প্রতিষ্ঠানটির ৬ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। পুলিশি তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে করোনা সনদ জালিয়াতিতে ডা. সাবরিনার নাম আসে। তিনি জাতীয় হৃদরোগ ইনিস্টিটিউটের কার্ডিয়াক সার্জন ও কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের রিজিস্ট্রার। গত ১২ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই দিনই জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতাল থেকে ডা. সাবরিনাকে সাময়িক বহিষ্কার করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *