Thu. May 28th, 2020

Sylhetamarsylhet.com

Online News Paper

পদ্মা সেতুর ২৯তম স্প্যান বসেছে, দৃশ্যমান ৪.৩৫ কি.মি. 

পদ্মাসেতু

অনলাইন ডেস্ক :

পদ্মাসেতুর ২৯তম স্প্যান স্থাপনের মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয়েছে ৪৩৫০ মিটার। সোমবার সকালে মাওয়া অংশের ১৯ ও ২০তম খুঁটির উপর বসিয়ে দেয় হয় ‘৪এ’ নম্বর স্প্যানটি। ১৫০ মিটার দীর্ঘ এবং ৩১৪০ মে. টন ওজনের স্প্যানটি বসিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে স্বপ্নের এই সেতু অগ্রগতির আরেক ধাপ এগিয়ে গেল।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, সকাল থেকেই স্প্যানটি পজিশনিং করে ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে এরপর খুঁটির উপর তুলে দেয়া হয়। যখন খুঁটিতে পুরো পুরে স্প্যানটি সেট হয়ে যায়, তখন ঘড়ির কাটায় পৌনে ১১টা। করোনা দুর্যোগে চারিদিকে স্তব্ধ অবস্থা। এরই মধ্যে গ্রীষ্মের রোদ্রকোজ্জ্বল সকালের স্প্যান উঠে যাওয়ার ক্ষনটি ছিল বেশ আকর্ষণীয়। পদ্মায় আগমনী বর্ষার পানিতে টলটল করছে। চারিদিকে প্রকৃতিতেও সতেজ অবস্থা। এরই মাঝে বিশাল ভাড়ি ভাড়ি যন্ত্রপাতি সমাবেশ আর শব্দহীন বিশেষ এক ছন্দে বিশাল স্প্যানটি বসে যায়। মাওয়া থেকেই এই দৃশ্যগুলো দেখা যাচ্ছিল।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, এর আগে রবিবার সকাল ৮টার দিকে স্প্যানটিকে মাওয়ার কাছে কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ভাসমান ক্রেনে করে নিয়ে আসা হয় খঁটির সামনে রাখা। সোমবার সকাল ৭টা থেকেই স্প্যানটিকে পিলারের উপর বসানোর কাজ শুরু হবে।

মরণব্যাধি করোনা যেন এখানে বাদসাধতে পারেনি। সোমবার ২৯তম স্প্যান স্থাপন ছাড়াও করোনার মধ্যেই গত ২৮ মার্চ সেতুর ২৭তম স্প্যান এবং ১২ এপ্রিল ২৮তম স্প্যান খুঁটিতে উঠেছে। এরপর ৩১ মার্চ ২৬ নম্বর খুঁটি বসানোর মধ্য দিয়ে সেতুর সব খুঁটি সম্পন্ন হয়ে গেছে। ভিত সম্পন্ন হয়ে এবং অনবরত স্প্যান বসে যাওয়ায় স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে বড় ধাপগুলো অতিক্রম করে এগিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া চলতি মাসেই ৩০তম স্প্যানও বসে যাওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া বসে যাওয়া স্প্যানগুলোতে হরদম কাজ চলছে। এখানে এখনও দেশী-বিদেশী প্রায় দুই হাজার কর্মী কাজ করছে এখানে।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটি দ্বিতল হবে, যার ওপর দিয়ে সড়কপথ ও নিচের অংশে থাকবে রেলপথ। সেতুর এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটির দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিটার। একেকটি খুঁটি ৫০ হাজার টন লোড নিতে সক্ষম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসিকতায় নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মূলসেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে চীনের ‘সিনো হাইড্রো করপোরেশন’।