Thu. May 28th, 2020

Sylhetamarsylhet.com

Online News Paper

দেশের সবচেয়ে লম্বা মানুষ জিন্নাত আলী আর নেই

দেশের সবচেয়ে লম্বা মানুষ জিন্নাত আলী

সিলেট আমার সিলেট ডেস্ক :

বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘ মানব হিসাবে পরিচিতি পাওয়া কক্সবাজারের রামুর সেই জিন্নাত আলী আর নেই। মঙ্গলবার ভোরে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল মাত্র ২৪ বছর।

রামুর গর্জনিয়ার ইউনিয়নের বড়বিল গ্রামের বর্গা চাষী আমীর হামজার (৬০) ছেলে জিন্নাত আলী। তার এক মেয়ে, তিন ছেলের মধ্যে জিন্নাত আলী তৃতীয়। জিন্নাত আলীর বড় ভাই মোহাম্মদ ইলিয়াছ জিন্নাতের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জিন্নাত দীর্ঘদিন ধরে মস্তিষ্কে টিউমার জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এছাড়াও তার ডায়বেটিসও ছিল। কয়েকদিন আগে মাথায় টিউমারজনিত সমস্যা বেড়ে গেলে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত রোববার (২৬ এপ্রিল) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রথমে নিউরোলজি বিভাগে, পরে নিউরোসার্জারী বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। এরমধ্যে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সেখানে মঙ্গলবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। মরহুমের জানাজার নামাজ স্থানীয় গর্জনিয়া বড়বিল এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

জিন্নাত আলীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল।

জানা গেছে, জিন্নাতের গড়ন সবার মতো স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ওর বয়স যখন ১২ বছর, সে সময় থেকেই দ্রুত উচ্চতা বাড়তে থাকে। প্রতিবছর ২ থেকে ৩ ইঞ্চি করে আকৃতি বাড়তে থাকে। ১০ বছরের মধ্যে প্রায় ৪ ফুট উচ্চতা বেড়ে জিন্নাত হয়ে ওঠেন ৮ ফুট ২ ইঞ্চির এক দীর্ঘমানব।

গর্জনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হাফেজ আজমদ জানান, জিন্নাত আলীর মাথায় টিউমারের বিষয়টি জানাজানি হলে ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর মাসে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল মহোদয় চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যান এবং তাকে সংসদ ভবনে নিয়ে গিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করিয়ে দেন।

এ সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে জিন্নাতের চিকিৎসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা অনুদান দেন এবং জিন্নাত আলীকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করান। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোঃ আবদুল্লাহ জিন্নাত আলীর চিকিৎসা করেন। তিনি আরও জানান, ওই সময় হাসপাতালে কয়েকদিন চিকিৎসা সেবা গ্রহনের পর চিকিৎসকেরা তার মাথার টিউমার অপারেশনের উদ্যোগ নিলে বেঁকে বসেন জিন্নাত ও তার পরিববারের সদস্যরা। তাদের ধারনা ছিল অপারেশন করলেই জিন্নাত মারা যাবে। তাই অপারেশন না করেই এক পর্যায়ে বাড়ি নিয়ে আসা হয়।