Main Menu

সিলেটে খুলছেনা ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট

শুরু হয়েছে নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সমীক্ষা। শাবির দুটি বিশেষজ্ঞ দল প্রথম দিনে নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ৬টি মার্কেট পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করেন। তবে তারা এসব মার্কেট খুলে দেয়ার তাৎক্ষনিক কোন নির্দেশনা দেননি। তাই সিটি করপোরেশনও এসব মার্কেট খুলার কোন সিদ্ধান্ত জানায়নি। সিসিক বলছে, বিশেষজ্ঞদের চুড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মার্কেটগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সিলেটে ১০ দিনে ১০ বার ভুমিকম্পের পর ১০ দিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ৬টি মার্কেট। নির্ধারিত দশ দিন শেষ হয়েছে গতকাল।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বিশেষজ্ঞ দল গতকাল প্রথম দিনে নগরীর মধুবন সুপার মার্কেট, মিতালি ম্যানশন, সমবায় ভবন, সিটি সুপার মার্কেট, সুরমা মার্কেট ও রাজা ম্যানশন পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করেন।

পর্যবেক্ষণের পর বিশেষজ্ঞরা জানান, বন্ধ থাকা ৬টি মার্কেটের গুরুত্ব বিবেচনায় এগুলো দিয়েই তারা ভবনগুলোর সক্ষমতার বিষয়ে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছেন। আরও বিভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ভবনগুলোর সক্ষমতা নিয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

দুই বিশেষজ্ঞ দলের নেতৃত্বে রয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম ও স্কুল অব এপ্লাইড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোশতাক আহমদ।

পর্যবেক্ষণের পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব এপ্লাইড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের ডিন প্রফেসর ড. মোশতাক আহমেদ জানান, বন্ধ থাকা ৬টি মার্কেটের গুরুত্ব বিবেচনায় এগুলো দিয়েই তারা ভবনগুলোর সক্ষমতার বিষয়ে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছেন। আরও বিভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ভবনগুলোর সক্ষমতা নিয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

তিনি জানান, এটি তাদের প্রাথমিক কার্যক্রম। ভবনগুলো সম্পর্কে জানতে তাদের আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। পর্যায়ক্রমে নগরীর সবগুলো ভবন সার্ভে করে ঝুঁকি নির্ণয় করবেন তারা।
জানা গেছে, এই মুহূর্তে বিশেষজ্ঞরা ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণার চেয়ে ভূমিকম্প ঝুঁকির শহরে মানুষকে বাঁচানো বা ক্ষয়ক্ষতি কিভাবে কমিয়ে আনা যায় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কাজ শুরু করেছেন। এর অংশ হিসেবে আগামী ৬ মাসের মধ্যে নগরীর সকল ভবনের সক্ষমতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন জমা দেবেন। চিহ্নিত করবেন ঝুঁকিপূর্ণ সব ভবন।

এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে বুধবার বিকেলে শাবিপ্রবিতে জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাথে কাজ করতে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান শাবির বিশেষজ্ঞরা। এসময় নগরীর ৪২ হাজার ভবন পর্যায়ক্রমে সমীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ বিষয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল এন্ড অ্যানভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ভেতর যতগুলো ভবন আছে সবগুলো পরীক্ষা করা হবে। সিসিকের সমন্বয়ে আমরা এ কাজটি করব। কিন্তু এটা আমাদের পক্ষে একা করা সম্ভব না। তাই সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও ছাত্রদেরকেও নেওয়া হবে। সকলে মিলে কাজটি করব। এ ক্ষেত্রে সকল ভবন পরীক্ষা শেষ করতে হয়ত ৬ থেকে ৮ মাস সময় লাগতে পারে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা বৃহস্পতিবার সকালে ও বিকেলে ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি মার্কেট পরিদর্শন করেন। তাদের দেয়া প্রতিবেদন পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেবে সিসিক। শাবির বিশেষজ্ঞ টিম পরিদর্শনের পর তাদের নির্দেশনা পেলে খুলে দেয়া হবে ঝূঁকিপূর্ণ হিসেবে বন্ধ থাকা মার্কেট বা ভবন।

গত ২৯ মে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৭ দফায় ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে সিলেট। পরদিন ৩০ মে ভোর রাতে ফের ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ৯ দিনের মাথায় গত সোমবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় ফের দুই দফা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে সিলেট নগর। ফাটল ধরা দেয় রাজা জিসি হাইস্কুলের ‘কামরান ভবন’ ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ভবনে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *