Main Menu

ঘরের কোণে এক টুকরো সবুজ  

অনলাইন ডেস্ক :

নাগরিক জীবনে এক টুকরো সবুজের খোঁজ করেন সবাই। সবুজের সান্নিধ্যে খানিকটা সময় কাটাতে ইচ্ছে থাকলেও সময়ের অভাবে হয়না পার্কে যাওয়া। ইটকাঠের প্রাণহীন শহরে সবুজের ছোঁয়া পেতে আজকাল বাড়িতেই অনেকে তৈরি করে নিচ্ছেন সবুজের বাগান। ঘরে বা বারান্দায় বিভিন্ন রকমের গাছের সমারোহ থাকলে পরিবেশও শীতল থাকে। সতেজতা পায় মন, প্রাণোচ্ছ্বল হয় নিত্যদিনের কাজকর্ম। বিশ্ব পরিবশে দিবসের আজকের দিনে ঘরের কোণে এক টুকরো সবুজের পরিচর্চা কীভাবে নেবেন জেনে নেওয়া যাক-

১.প্রয়োজন মতো গাছে নির্দিষ্ট পরিমাণে পানি দিন। অতিরিক্ত পানি গাছের ক্ষতি করে। সবসময় খেয়াল রাখুন, সারারাত গাছের গোড়ায় যেনো পানি জমে না থাকে। এতে গাছের গোড়া পচে যেতে পারে। প্রতিদিনই পানি দিতে হবে এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তাই গাছে পানি দেওয়ার আগে হাত দিয়ে মাটি চেপে দেখে নিন ভিজে আছে কি-না। যদি ভেজা থাকে তাহলে পানি দেওয়ার দরকার নেই। এক্ষেত্রে অন্য একটি পদ্ধতিও ব্যবহার করতে পারেন, বিশেষ করে বর্ষাকালে একটি লম্বা সূচ টবের মাটিতে ঢুকিয়ে তুলে আনার পর যদি দেখেন সূচের গায়ে ভিজে মাটি লেগে আছে তাহলে পানি কখনোই দেবেন না।

২.যে ঘরে আলোবাতাস চলাচল তুলনামূলক বেশি করে সেরকম জায়গায় গাছ রাখুন। খুব অন্ধকার ঘর বা যেখানে খুব রোদ আসে সেখানে গাছ রাখা ঠিক নয়। গাছের নতুন চারা অবশ্যই বারান্দায় বা যেখানে আলোবাতাস আসে, সেখানটাতে রাখুন। এতে চারা ঠিকঠাক বেড়ে উঠবে এবং গাছে ফাংগাসও হবে না। যে ঘরে এসি চলে বা রুম টেম্পারেচার ঘন ঘন বদলে যায়, সেরকম ঘরে গাছ না রাখাই ভালো। এতে সহজে গাছের পাতা ঝরে পড়ে যায়।

৩.গাছ অতিরিক্ত রোদ পেলে অনেকসময় পাতার সামনের অংশ শুকিয়ে কুঁকড়ে যেতে পারে। পাশপাশি গাছের ফুল বা পাতার রঙও হালকা হয়ে যেতে পারে। এরকম হলে গাছ সরাসরি রোদে না রেখে অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা জায়গায় সরিয়ে রাখতে পারেন।

৪.বেশি বেশি সার দেওয়ার ফলে অনেকসময় গাছের চারা খুব তাড়াতাড়ি বাড়লেও কাণ্ড হলদে হয়ে যায়। এবং হঠাৎ করে গাছ নেতিয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টায় বেশি করে পানি গাছের গোড়ায় দিতে পারেন। সার ধুয়ে বেরিয়ে গেলে সমস্যা থেকে গাছ মুক্তি পাবে। এসময় খেয়াল রাখবেন, শুকনো পাতা, ঝরে পড়া ফুল যেনো টবের মধ্যে জমে না থাকে। টব সবসময় পরিষ্কার রাখুন। এতে গাছ ভালো থাকবে।

৫.গাছের পাতায় ঘরের ধুলোময়লা, ধুলো বা ঝুল জমলে শুকনো সুতির নরম কাপড় বা স্পাঞ্জ দিয়ে হালকা হাতে পাতাগুলো মুছে দিন। গাছে ছোট ছোট অনেক পাতা থাকলে স্প্রে বোতলে পানি ভরে স্প্রে করে পরিষ্কার করে নিন। তবে, একসঙ্গে অনেক গাছ পরিষ্কার করতে চাইলে শাওয়ারের তলায় গাছগুলো রাখুন। এ সময় গাছের গোড়ার অংশ ও তার চারদিক প্লাস্টিক দিয়ে মুড়িয়ে নিন। না হলে গাছের মাটি ধুয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৬.মাটি ভিজে থাকতে থাকতে লিক্যুইড প্ল্যান্ট ফুড দিন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্ল্যান্ট ফুড দেবেন না। গাছের পক্ষে তা ক্ষতিকারক। নাইট্রোজেন, ফসফেট ও পটাশ রয়েছে এরকম লিক্যুইড প্ল্যান্ট ফুডই ইনডোর প্ল্যান্টের জন্যে আদর্শ।

৭.গাছকে পোকামাকড় থেকে বাঁচাতে পানিতে অ্যাসপিরিন জাতীয় ট্যাবলেট গুঁড়া করে মিশিয়ে দিতে পারেন। অ্যাসপিরিনের স্যালিসিটিক অ্যাসিড গাছের ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে। এই মিশ্রণ স্প্রে বোতলে ভরে গাছের পাতায় মাঝেমধ্যে স্প্রে করলে আপনার সাধের বাগানের গাছগুলো রক্ষা পাবে ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *