Main Menu

মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায়- মিডওয়াইফ :: ডাঃ তানভীরুজ্জামান

প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে মায়েরা সন্তান জন্ম দান করছেন এবং নতুন জীবনের শুরু হচ্ছে। তবে বিশ্বব্যাপী উন্নত যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতার জন্য প্রতিবছর সন্তান জন্মদানের সময় অনেক মায়ের মৃত্যু হয় এবং নানা রকম জটিলতার সৃষ্টি হয়।
স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় বাংলাদেশ যে অভূতপূর্ব অগ্রগতি করেছে তাতে আমরা গর্বিত হতে পারি। তবে মাতৃস্বাস্থ্যসেবায় এখন ও অনেক উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষত মাতৃমৃত্যু যা গত ১০ বছরে স্থবির হয়ে আছে। বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর তিনটি উল্লেখযোগ্য কারণ রয়েছে যেমন: এক. অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, দুই. উচ্চ রক্তচাপ, তিন. বাধাগ্রস্ত এবং বিলম্বিত প্রসব। এ তিনটি কারণই প্রতিরোধযোগ্য। মা যদি সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে থাকেন, তাহলে মাতৃমৃত্যুর তিনটি উল্লেখযোগ্য কারণকে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ তিনটি কারণকে প্রতিরোধ করতে পারলে মাতৃমৃত্যুর হার অনেক কমে আসবে।
তাছাড়া বর্তমানে, প্রায় অর্ধেক প্রসব এখনও বাড়িতে সংঘটিত হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এরা খুবই অদক্ষ ধাত্রী দিয়ে প্রসবের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করছেন যা মা ও শিশু স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি।
এ পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য দক্ষ মিডওয়াইফের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। সামগ্রিকভাবে দক্ষ মিডওয়াইফের মাধ্যমে প্রসবের হার এখনো অনেক কম। কিন্তু দক্ষ ও পেশাদার মিডওয়াইফ মা ও নবজাতকের মৃত্যুরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। একজন মিডওয়াইফ জানেন অন্তঃসত্ত্বা মা ও নবজাতকের অবস্থার অবনতি হলে কীভাবে তা শনাক্ত করবেন।একজন মিডওয়াইফ অস্ত্রোপচার ছাড়াই সমস্যার সমাধানে সহায়তা করেন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তিনি জানেন, কখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে মা ও নবজাতককে পাঠাতে হবে।
বৈশ্বিক মহামারির মত যখন কোনও সংকট দেখা দেয় তখন দক্ষ সেবাদানকারীর উপস্থিতি এবং জরুরী প্রসূতি সেবার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষত বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে অনুমানিক প্রতি ঘন্টায় প্রায় ৪০০ সন্তানের জন্ম হয়।
মিডওয়াইফরা মা এবং তাদের নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মিডওয়াইফরা গর্ভাবস্থায়, প্রসবকালীন এবং প্রসব পরবর্তী সময়ে মূল পরিচর্যাকারী, এবং দক্ষ সেবাদানকারী যারা মাতৃস্বাস্থ্যের সাথে সম্পর্কিত জটিলতাগুলো সহজে সনাক্ত করতে পারেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। নিরাপদ প্রসব সেবার পাশাপাশি, পেশাদার মিডওয়াইফরা মহিলা এবং দম্পতিদের জন্য প্রজনন স্বাস্থ্য তথ্য এবং পরিষেবাদি, যেমনঃ পরিবার পরিকল্পনা সেবা, লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরামর্শ দেওয়া ইত্যাদি সেবাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাছাড়া তারা স্তন এবং জরায়ুর ক্যান্সারের স্ক্রিনিংও করতে পারেন। সুস্থ মহিলা, সুস্থ পরিবার এবং সুস্থ সমাজ নিশ্চিত করার জন্য এই পরিসেবাগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সুতরাং জরুরী পরিস্থিতিতেও এই সেবাপ্রদান অব্যাহত রাখতে হবে।
২০১০ সালে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সেক্রেটারি-জেনারেল-এর ‘প্রত্যেক মহিলা, প্রতিটি শিশু’ উদ্যোগের সাথে মিল রেখে পেশাদার মিডওয়াইফদের একটি নতুন ক্যাডার চালু করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এরই প্রেক্ষিতে বর্তমানে সারা দেশে ৩৪২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১৪৯ জন নিবন্ধিত মিডওয়াইফকে নিয়োগ করা হয়েছে। আগস্ট ২০১৮ তে মিডওয়াইফদের নিয়োগ করার পর থেকে তারা; গর্ভকালীন সেবা, প্রসবসেবা এবং প্রসব পরবর্তী সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা পরিসেবা প্রদানের মাধ্যমে নারীদের স্বাস্থ্যসেবার অ্যাক্সেস এবং গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এই মিডওয়াইফরা এই বৈশ্বিক মহামারীর সময়ে ও সারাদেশে প্রতিটি মা এবং নবজাতককে তাদের প্রয়োজনীয় যত্ন এবং সেবা প্রদান নিশ্চিত করার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রতিদিন মিডওয়াইফরা মা ও নবজাতকের জন্য জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান করে যাচ্ছেন।
৫ই মে আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফ- দিবসে প্রত্যেক মিডওয়াইফকে অভিবাদন যারা এই সংকটকালীন সময়ে ও সুস্থ মা ও সুস্থ শিশুর জন্য প্রতিনিয়ত প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন।

লেখক- জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *