Thu. May 28th, 2020

Sylhetamarsylhet.com

Online News Paper

চবি শিক্ষকের আইডিয়া বাঁচাতে পারে ‘কোভিড-১৯’ আক্রান্ত রোগীর প্রাণ

ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া।ছবি: সংগৃহিত

অনলাইন ডেস্ক :

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মরণব্যাধি করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) ইতিমধ্যে বাংলাদেশেও প্রবেশ করেছে। এতে কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত এর প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়ায় বিশ্বব্যাপী এই ভাইরাসে আক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৪৪ হাজার।

এ থেকে উত্তরণে করোনা সংকটাপন্ন রোগীদের বাঁচাতে ‘পরোক্ষ এন্টিবডি থেরাপি’ নামে একটি আইডিয়া উপস্থাপন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া।

সম্প্রতি তিনি এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার ব্যক্তিগত আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি যারা করোনা রোগীদের সেবায় জড়িত সেসব ডাক্তারদের উদ্দেশে সংকটাপন্ন রোগীদের বাঁচাতে একটি আইডিয়ার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি লিখেন, করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগীদের বাঁচানোর জন্য ১৮৯০ সালের এই এপ্রোচ (পদ্ধতি) আশীর্বাদ হয়ে কাজ করতে পারে। এটাকে পরোক্ষ এন্টিবডি থেরাপি বলা হয়। পরোক্ষ এন্টিবডি থেরাপি নামকরণ হয়েছে কারণ একজন ব্যক্তির শরীরে উৎপন্ন এন্টিবডি অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করানো হয়।

তা হলো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত থেকে নিরাময় হয়ে উঠা ব্যক্তির ব্লাড-প্লাজমা বা ব্লাড-সিরাম নিয়ে (ভাইরাস ও অন্যান্য ইনফেক্সাস এজেন্ট স্কিনিংয়ের পর) আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করালে আক্রান্ত ব্যক্তি খুব তাড়াতাড়ি নিরাময় হয়ে উঠতে পারে। কারণ পূর্বে নিরাময় হয়ে উঠা ব্যক্তির ব্লাড প্লাজমা অথবা সিরামে এন্টি কোভিড-১৯ এন্টিবডি উৎপন্ন হয়ে আছে, যা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের প্রবেশ করালে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত নিরাময়ে দারুণ ভূমিকা রাখবে।

এ সম্পর্কে তিনি কয়েকটি পরিসংখ্যান উল্লেখ করেন, এ ধরনের ব্লাড-প্লাজমা বা ব্লাড-সিরাম এপ্রোচের মাধ্যমে ১৯১৮ সালে এইচ১এন১ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস মহামারিতে ১৭০০ আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর প্রয়োগ করে ভালো ফল পাওয়া গিয়েছে ধারনা করা হচ্ছে। যদিও তখন বর্তমান সময়ের তুলনায় জ্ঞানের ব্যাপ্তি কম থাকায় কোন উপসংহারে আসা যায়নি।

২০০২-০৩ সালে সার্চ প্রাদুর্ভাবের সময় হংকং এ আক্রান্ত ৮০ ব্যক্তির ওপর একইভাবে আক্রান্ত থেকে নিরাময় হয়ে উঠা ব্যক্তির ব্লাড-সিরাম প্রয়োগ করা হয়। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রুত নিরাময় হয়ে উঠে। তাছাড়া ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এ পদ্ধতির মাধ্যমে কিছু সাফল্য পাওয়া গিয়েছে।

এর আগে ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া করোনা ভাইরাস নির্ণয়ের সঠিক পরীক্ষা পদ্ধতি ‘আরটি-পিসিআর’র সাথে নিজেদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আরটি-পিসিআর’ মেশিনে প্রতি ৩ ঘণ্টায় ৯৬ জনের সেম্পল টেস্ট করা যায়। আমরা যারা মলিকুলার বায়োলজি সম্পর্কিত গবেষণা করেছি তারা সবাই ‘আরটি-পিসিআর’ মেশিনের সাথে সুপরিচিত। বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে এ মেশিন আছে। সরকারের অনুমতি পেলে সেফটি মেজার নিয়ে স্ব-স্ব ল্যাবে করোনা নির্ণয়ের পরীক্ষা করে জাতির এ দুর্যোগে অবদান রাখার সুযোগ পাবো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত বিচ্ছিন্ন করে বাকী সবাইকে নিরাপদে রাখা যাবে।

এসব বিষয়ে কথা হয় ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়ার সাথে। তিনি দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি যে ধারণাটা দিয়েছি, সেটা যখন কোনো রোগীকে সাধারণ চিকিৎসায় বাঁচানো সম্ভব হবেনা তখন এ পদ্ধতির প্রয়োগ করে ভালো ফলাফল আসবে বলে আশাকরি। মহামারি থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে একযোগে কাজ করা প্রয়োজন। একেক হাসপাতালে একেকভাবে চিকিৎসা না দিয়ে সবাই মিলে সমন্বয়ের মাধ্যমে এক পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেওয়া দরকার।’

তবে এই ধারণাকে ভালো বললেও বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিষয়টির সাথে একমত নন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। তার দাবি, এই মুহূর্তে এটি বাস্তবায়ন করা যাবেনা। কারণ পরোক্ষ এন্টিবডি হস্তান্তরের প্রযুক্তি বাংলাদেশে সহজলভ্য না। আরেকটি বিষয় এখানে আছে যে, এটি গণহারে কতটুকু কার্যকরী তারও কোনো গ্রাউন্ড নেই। এখন দেখা যাচ্ছে চায়নাতে যারা করোনা থেকে সেরে উঠেছেন তাদের ৪০ ভাগ আবারও আক্রান্ত হচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

অপর অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোহাম্মদ মনিরুল হাসান বলেন, ‘এ ধারণাটা বিশ্বাসযোগ্য এবং অথেনটিক। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশ্ন রয়ে যায়।’ তার মতে, এখনই বাংলাদেশে এটা প্রয়োগ করা যাবেনা। আগে দেশে এই উপযোগী ল্যাব স্থাপন দরকার। তখন এ বিষয়টা নিয়ে কাজ করা যাবে।’