Main Menu

রাজনীতির রাজপুত্র এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস ——- আ’লীগ নেতা সুয়েব

হাকালুকি ও কুশিয়ারা নদীর মাঝখানে নয়নাভিরাম অপরুপ সুন্দর নুরপুর গ্রামের বড়বাড়িতে ১৯৫৫ সালের ৩ জানুয়ারী অভিজাত মুসলিম পরিবারে মরহুম দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী ও মরহুমা আছিয়া খানম চৌধুরীর মুখ উজ্জল করে জন্মগ্রহন করেন মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। মহান জাতীয় সংসদের সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে টানা তৃতীয় বারের জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কি লিখব ভাষা হারিয়ে ফেলেছি, কেঁদেছি বার বার, চোখের পানি আটকানো যায়না, হাত যেনো একবারেই চলেনা। ২০২০ সালের মার্চ মাসের শেষে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভি আই পি লাউঞ্জে কয়েস ভাই তাঁর ছেলেকে সংগে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার সময় কথা হয়। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে “শাশ্বত বাংলার অবিনশ্বর মুজিব” বই লিখছি। শুনে খুশি হলেন এবং লিখাটা আগে তাঁর হাতে দেওয়ার জন্য বলেন। আজ তাঁকে নিয়েই লিখতে হচ্ছে।
সুঠাম দেহের অধিকারী, সাদা পাঞ্জাবী-পায়জামা, মুজিব কোর্ট, জিনস সার্ট-প্যান্ট, টি-শার্ট, লুঙ্গি-গেঞ্জি পরিহিত অবিকল বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়ে উঠা মাহমুদ উস সামাদ কয়েস আমৃত্য্ ুমানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে কৃতকর্মের মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।
অভিজাত পরিবার হিসেবে লন্ডনে রাণী এলিজাবেথের প্রাসাদের এলাকায় ওয়েলসে রাজ পুঁত রেস্তোরা ও টেলিভিশন চ্যানেল ‘এস’ যথেষ্ট যশ ও সুখ্যাতি অর্জন করে। স্কুল পড়ুয়া ছাত্র কয়েস ছোটকাল থেকেই ছিল ডানপিটে, চঞ্চল ও টগবগে। বঙ্গবন্ধুর দুর্গে নেতৃত্ব দেয়ার তরুণ যোদ্ধা হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করে ও স্কাউটের সদস্য পদ লাভ করেন।
১৯৭০ সালে দুর্যোগের সময় দশম শ্রেণির ছাত্র। চাল, ডাল, তেলসহ রিলিফ নিয়ে নোয়াখালীতে অসহায় ও সর্বস্বহারা মানুষের মাঝে বিতরণ করেন। এ ধারাবাহিকতায় তিনি নিজের যোগ্যতা, সততা ও মানুষের ভালবাসায় তিন বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এলাকায় রাস্তা ঘাট, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা তৈরি ও সরকারিকরণ, সেতু, খেলার মাঠ, মসজিদ, গোরস্তান, মন্দির, শ্মশানঘাট তৈরি, বিদ্যুত সরবরাহ, মিল ফ্যাক্টরি স্থাপন, হাওর উন্নয়ন ও নদী খনন করে সিলেট-৩ নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের বিপ্লব ঘটিয়েছেন।
মহামারি করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরু থেকেই ২০ মার্চ ২০২০ তারিখে সিলেটে আসেন এবং জন্মস্থান ফেঞ্চগঞ্জে অবস্থান করেন। যখন বেশির ভাগ নেতা ও জনপ্রতিনিধি নিজেকে চার দেয়ালে আটকে রেখেছেন তখন তিনি ছিলেন ব্যতিক্রম। শুরু থেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন জনগণের দিকে। এমন সাহসী নেতা কয়জন আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন, ভোট চাওয়ার জন্য ঘরে ঘরে গিয়েছিলেন এবার মানুষের পাশে থেকে সহায়তা করার জন্য। তাঁর নির্দেশে অসহায়, কর্মহীন মানুষের ঘরে ঘরে নগদ টাকা, খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেন। চারদিকে লকডাউন, দুর্দিন ও দুঃসময় ছিল। কারও বাড়িতে যাওয়া নিষেধ তিনি লোকজন নিয়ে মানুষের পাশে থেকে সহায্য করেছেন। রিকশাওয়ালা, গাড়িচালক, চা-শ্রমিক, ব্যবসায়ী, বেদে সম্প্রদায় থেকে যারাই কাজের অভাবে অর্থ সংকটে পড়ে তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। বিনামুল্যে মনিহারী দোকান বসিয়েছেন, প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠাতে পারেন না, যারা লজ্জায় চাইতে পারেন না, তাঁদের গোপনে খাদ্যসামগ্রী সহ নগদ টাকা সহায়তা করেন। নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে আসেন এবং বিকাশের মাধ্যমে নগদ অর্থ সাহায্য করেন।
প্রশাসনকে নিয়ে পরমর্শ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ সহ নানা কাজে সরাসরি নিজেকে ব্যস্ত রাখেন সারাদিন। করেনা ভাইরাস থেকে বাঁচার সতর্ক করেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিতরণ করেন, রমজান মাসে ইফতার সামগ্রী, ট্রাক ভর্তি আনারস ও বিভিন্ন ফল বিতরণ, সবজি ও মাছ, কাপড় বিতরণ করে রোজাদারদের সহযোগিতা করেন। কখনও বৃষ্টিতে ভিজে বা ছাতা মাথায় দিয়ে বানভাসি মানুষকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। বৈশাখ মাসে ছাত্র ও নেতাকর্মীদের নিয়ে অসহায় ও গরীব কৃষকের ধান কেটে বাড়ীতে পৌঁছে দেন। জনগণের কাজ করে জননেতা হয়েছেন। সবাইতো জননেতা হতে পারেনা। কোন নোংরা বা নষ্ট রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেননি।
মহান জাতীয় সংসদে এলাকার উন্নয়নসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন করেন ও পাশ হয়। তাঁর করমকান্ড দেশের রাজনীতির অঙ্গনকে অলংকিত করেছে। দেশতো এমন নেতা-ই চায়। এভাবেই তিলে তিলে নিজেকে নিজেই রাজনীতির রাজপুত্র হিসেবে গড়ে তুলেন আমাদের কয়েস ভাই। সম্রাট শাহজাহান তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রীকে খুশি করে মন জয় করার জন্য ‘তাজমহল’ বানিয়ে ছিলেন। আল্লাহ ভীরু কয়েস চৌধুরী নামাজ কালাম পড়তেন। অনুষ্ঠানে নিজেই বেশির ভাগ সময় মোনাজাত পরিচালনা করতেন। মহান আল্লাহকে খুশি করে সান্নিধ্য লাভের জন্য তাঁর পিতার নামে দৃষ্টিনন্দন আল্লাহর ঘর মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদে মানুষ যেন নামাজ পড়ে শান্তি পায়, একবার যে নামাজ পড়েছে বার বার নামাজ পড়ার ইচ্ছা হবে। আমি এ মসজিদে নামাজ পড়েছি, রাস্তার পাশে মসজিদ হওয়াতে আমার মদনমোহন কলেজের ছাত্রদের নিয়ে শিক্ষা সফরে যখন যেতাম তখন এ মসজিদেই ছাত্রদের নিয়ে ওয়াক্তের নামাজ আদায় করার চেষ্টা করতাম।
প্রভাষক মোহাম্মদ সুয়েবুর রহমান সুয়েব বলেন, দলের একজন সাধারণ কর্মী ও শিক্ষক হিসেবে কালজয়ী নেতা কয়েস ভাইয়ের কাছ থেকে অনেক উৎসাহ, উদ্দিপনা ও প্রেরণা পেয়েছি,। প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী ও দলের ইমেজ বৃদ্ধি করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করেছেন জাতীয় নির্বাচন, সিটি কর্পোরেশনসহ সব ধরনের নির্বাচনে কান্ডারী হিসেবে কাজ করেছেন। দলের প্রতিটি নেতাকর্মী ছিল অতি আপনজন আমাদের কয়েস ভাই। সকলকে আপন করে রেখেছেন, সব ধরনের মানুষের সাথে ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক।
গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করেনা রোগী শনাক্ত হয়। এ বছর ৮ মার্চ প্রিয় নেতার শরীরে করোনা বাসা বাঁধে, ধরা পড়ে। ১১ মার্চ সাহসী নেতা এ ভুবন কাঁদিয়ে চলে যান না ফেরার দেশে। সিলেটবাসীর প্রিয় নেতাকে শেষ বার দেখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ধরণিকন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে বিশেষ হেলিকাপ্টরে নিয়ে আসেন নুরপুরের বড়বাড়িতে। কাউকে শান্তনা দেয়ার ক্ষমতা নেই। দেশে-বিদেশে যেন শোক সাগরে পরিনতি হল। লন্ডন কমিউনিটির সাথে ছিল নেতার আত্মার সম্পর্ক। কমিউনিটি নেতা জামাল উদ্দিন রেজা, শানুর আলী, আব্দুল হান্নান, আবুল কালাম আজাদ চৌধুরী, আনোয়ারুজ্জামান, সিপার আহমেদ সহ অসংখ্য মানুষ প্রিয় মানুষটির খোঁজ নিচ্ছেন, প্রলাপ বিলাপ করে, শান্তনার দেয়ার ভাষা কারও নেই। আল্লাহর নিকট নেতার জান্নাত কামনা করে দোয়া করেন।
জানাজায় অংশ নিলাম, স্বজন-আত্মীয়, নেতাকর্মীদের সাথে নিজেও কান্নাকাটি করে একমাত্র ভরসা আল্লাহর কাছে জান্নাত চাইলাম। তাঁর দেখানো পথ আমাদের সামনে চলার সাহস ও শক্তি যোগাবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়তে অনুপ্রেরণা যোগাবে। মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী পরিবারকে সহযোগিতা করার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান এবং চলমান কাজ গুলো তাঁর পরিবারের মাধ্যমে সম্পন্ন করার জন্য ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কয়েস চৌধুরীর নামে নামকরণ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানান।
প্রভাষক সুয়েব মহান আল্লাহর কাছে জননেতা মাহমুদ উস সামাদ কয়েস চৌধুরীর জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করেন, তাঁর পরিবার, নেতা কর্মী, শুভাকাংখী ও সুহৃদগণের প্রতি গভীর সমবেদনা-সহমর্মিতা জানান।
লেখক- মোহাম্মদ সুয়েবুর রহমান সুয়েব, প্রভাষক- মদনমোহন কলেজ, সিলেট ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক- ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামীলীগ, সুনামগঞ্জ।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *