Main Menu

ইন্টারনেটের অপব্যবহার

অনলাইন ডেস্ক :

সরকার তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ইন্টারনেটের ব্যবহার পৌঁছে দিচ্ছে। জনগণও খুব দ্রুত ও সহজভাবে এর সুবিধা পাচ্ছে। এর সুফলের মাধ্যমে স্বচ্ছতাও সৃষ্টি হচ্ছে অনেকখানি। এটার কারণে পৃথিবী এখন হাতের মুঠোয়। স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইমো, ইউটিউব, জিমেইল, মেসেঞ্জার—এ সংক্রান্ত অনেক কিছুর সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছি। আমাদের প্রয়োজনেই তা আবিষ্কারের উৎস।

প্রয়োজনের তাগিদেই মানুষ আজ বিংশ শতাব্দীতে পেয়েছে এত সব উন্নত প্রযুক্তির সুবিধা। তথ্যপ্রযুক্তি ছাড়া একটি দিন অতিবাহিত করা অসম্ভব। সব ইন্টারনেটের আবিষ্কার মানবসভ্যতাকে করেছে অগ্রসর। আমাদের জীবনকে করেছে সহজ। খুব সহজেই ঘরে বসে ব্যবসায়-বাণিজ্য, কেনাকাটা, ভ্রমণে টিকিট প্রাপ্তি, পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া, করোনা মহামারিতে শিক্ষার ধারাবাহিকতা চালিয়ে যাওয়া; তাছাড়া বিভিন্ন জানা-অজানা তথ্য সম্বন্ধে অবগত হতে পারছি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো পালন করছে অনেক অনেক ভূমিকা। প্রতিটি আবিষ্কারের ভালো ও খারাপ দিক আছে। বর্তমানে তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। কিন্তু এর অপব্যবহারের কারণে দ্রুত ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের তরুণ সমাজ। পিতামাতার উত্সাহ বা অবহেলার কারণে শিশুরা খুব কম বয়সে বিভিন্ন গেমে আসক্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে দেশে ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে প্রযুক্তির অপব্যবহারকে দায়ী করেছেন বিশ্লেষকেরা। তারা এটাও বলছেন, করোনাকালে ডিভাইস-নির্ভরতা, পারিবারিক বন্ধন কমে যাওয়া এবং সন্তানদের প্রতি বাবা-মায়ের দায়িত্ববোধের অভাব বাড়িয়ে দিয়েছে সামাজিক অপরাধ। সংকট থেকে উত্তরণে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা অনেকটা দায়ী।

পুলিশের সাইবার অপরাধ ডিভিশন, অর্থাৎ সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনের তথ্য অনুযায়ী গত পাঁচ বছরে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি সাইবার মামলা হয়েছে। ২৫০টি মামলার তদন্ত চলছে। বিচারাধীন আছে ৪০০ মামলা। অপরাধ তদন্তের জন্য একমাত্র সিআইডি সাইবার অপরাধ ল্যাব আছে। অপরাধ তদন্তে হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু অপরাধ তো থেমে নেই।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এ করোনার মধ্যে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর এ বছর প্রথম ৯ মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৯৭৫ জন নারী। এর মধ্যে একক ধর্ষণের শিকার ৭৬২ জন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ২০৮ জন নারী। তাছাড়া কিশোর গ্যাং তো সাইবারের সৃষ্টি। রিফাত হত্যাকাণ্ড, নয়ন বন্ড এর ফসল। নারীর চরিত্র হনন, ধর্ষণের দৃশ্য নেটে ছেড়ে দিয়ে নারীকে আত্মহত্যার পথে ধাবিত করা হচ্ছে। জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদিতা সাইবারের মাধ্যমেই ছড়াচ্ছে। শিশুরা অল্প বয়সে চোখের সমস্যায় ভুগছে, মানসিক বিকাশে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খেলাধুলা না করার কারণে শিশুরা অল্প বয়সে মুটিয়ে যাচ্ছে।

দেশের তরুণ সমাজ সাহিত্যচর্চার দিক দিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে। এখন আর বাসে বা ট্রেনে উঠলে দেখা যায় না কাউকে পত্রিকা বা ম্যাগাজিন পড়তে। সবাই যেন স্মার্ট ফোন নাড়াচাড়া নিয়ে ব্যস্ত। সমাজ ও অপরাধ গবেষকেরা বলেছেন, সংস্কৃতিচর্চার অভাব, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা, করোনাকালে ডিভাইস ও ইন্টারনেটের ব্যবহার আর প্রযুক্তিতে সরকারের যথেষ্ট নজরদারির অভাব বাড়িয়েছে ধর্ষণ। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবে শৈশব থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইট বা অ্যাপের প্রতি বাড়ছে আসক্তি নতুন প্রজন্মের। পরবর্তী সময়ে তারাই সহিংস হয়ে উঠেছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে রাষ্ট্রকে রাখতে হবে মূল ভূমিকা।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *